সাতক্ষীরায় ভুট্টার বার্ষিক চাহিদা ৭০-৭৫ হাজার টন উৎপাদন হয় তিন হাজার টন

সাতক্ষীরায় ভুট্টার স্থানীয় চাহিদা বছরে ৭০-৭৫ হাজার টন। কিন্তু অঞ্চলটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টন।

সাতক্ষীরায় ভুট্টার স্থানীয় চাহিদা বছরে ৭০-৭৫ হাজার টন। কিন্তু অঞ্চলটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন হয় সর্বোচ্চ তিন হাজার টন। এ হিসাবে সাতক্ষীরায় চাহিদার তুলনায় ভুট্টার স্থানীয় উৎপাদনের পরিমাণ মাত্র ৪ শতাংশ। ফলে ব্যবসায়ী ও মিলাররা উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে ভুট্টা কিনে এনে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছেন।

গতকাল সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, ফসলটি উৎপাদনে সারের ব্যবহার বেশি হওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। এছাড়া ভুট্টা জমির উর্বরতা শক্তিও কমিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। প্রত্যেক মৌসুমে প্রণোদনা দিয়েও উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কৃষকরা বলছেন, স্থানীয় পর্যায়ে মাড়াইযন্ত্র ও বিপণন ব্যবস্থা না থাকায় ভুট্টা উৎপাদন করা সম্ভব নয়।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকার ভুট্টা ব্যবসায়ী ও মিলার মোজাম্মেল হক জানান, তার মিলে প্রতি মাসে ভুট্টার চাহিদা ১৩০-১৪০ টন। প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মেটাতে উত্তরবঙ্গের জেলা দিনাজপুর, নীলফামারী ও ঠাকুরগাঁও থেকে ভুট্টা সংগ্রহ করতে হয়। এতে তার পরিবহন খরচ অনেক বেশি হয়।

তিনি বলেন, ‘জেলায় কমপক্ষে ৩০-৩৫টি ভুট্টা মিল রয়েছে। এসব মিলে প্রতি মাসে ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টন ভুট্টার চাহিদা রয়েছে। এ হিসাবে বছরে ৭০-৭৫ হাজার টন ভুট্টা আমদানি করতে হয় জেলার বাইরে থেকে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা গেলে কৃষক যেমন লাভবান হতো তেমনি ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হতো।’

তিনি আরো বলেন, ‘এসব ভুট্টা মাছ, গবাদি পশু খাদ্য ও মুরগির খামারে ব্যবহার হয়। জেলায় ৬০ হাজারের বেশি মৎস্য ঘের, পাঁচ হাজারের মতো পোলট্রি ফার্ম ও প্রায় তিন হাজার গরুর খামার রয়েছে। এসব খামার ও মাছের ঘেরে ফিড হিসেবে ভুট্টার চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু চাহিদার পুরোটাই জেলার বাইরে থেকে নিয়ে আসতে হয়।’

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম ভুট্টা উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বণিক বার্তাকে জানান, ধান বা অন্যান্য দানাদার ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে প্রচুর সার ব্যয় হয়। তাছাড়া মাটির উর্বরতা শক্তিও নষ্ট করে ভুট্টা। এ কারণে ফসলটি উৎপাদনে কৃষকদের কম উদ্ধুদ্ব করা হয়।

আরও